
আকাশের মুখ ভার। ক্রমাগত আশার বানী শুনিয়ে চলেছে আবহাওয়া দপ্তর। বৃষ্টি আসছে বর্ষা আসবে কাল’ই। কাল, কাল যেনও মহাকালের চক্রে হারিয়ে গেছে। ধরা দিয়েও ধরা দিচ্ছেনা বর্ষা সুন্দরী। এদিকে তাপদাহ অন্যদিকে অনাবৃষ্টি। ভারতের কৃষি ক্ষেত্রকে এক বিরাট ক্ষতির মুখে ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা ৷ তাদের ভাষায় বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা এবং খাদ্যের চড়া দাম আর কৃষিক্ষেত্রে বিপর্যয় সব কিছু মিলিয়ে ভারতের অর্থনীতির উপর এর প্রভাব হবে ভয়ঙ্কর। প্রাকৃতিক নিয়মে ভারতের পূর্ব এবং উত্তর দিক থেকে আসা মৌসুমী বাযুর কারণে সারা ভারতে প্রতি বছর বৃষ্টিপাত হয়। কিন্তু এবার ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে এবছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৌসুমী বাতাসের প্রভাব কম থাকবে। ফলে বর্ষা হবে অন্য বছরের তুলনায় শতকরা ৯৩ ভাগ কম ৷ আর এই সব করণেই এবার পুরো ভারত জুড়ে তাপদাহের কারণে মৃতের সংখ্যা অন্য বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি।
মাত্র গত দুসপ্তাহের মধ্যেই গরমের কারণে ভারতের সাত আটটি রাজ্যে মারা গেছেন প্রায় একশোর’ও বেশি মানুষ। এক মাসে ভারতের মধ্য এবং পূর্ব দিকের রাজ্যগুলোতে তাপমাত্রা গড়ে ৪০ এর বেশি ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল এমাসে। উড়িষ্যার সম্বলপুরে-৪৬.২ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর তাপদাহে মৃতের সংখ্যাও এই রাজ্যে সবচেয়ে বেশি। উড়িষ্যার রাজধানী ভুবনেশ্বরের আবহাওয়া দপ্তরের একজন কর্মকর্তার জানানো তথ্য অনুসারে, তীব্র তাপদাহের কারণে এই রাজ্যে মারা গেছেন ৫৮ জন। এছাড়া উত্তর প্রদেশে মারা গেছেন ৩০ জন । কুর্দা জেলায় মারা গেছেন ১২জন। আর ঝাড়খন্ডে সোমবারে একই সঙ্গে মারা গেছেন ১৭ জন। ঝাড়খন্ডের পাশেই বিহার রাজ্যে একই কারণে মারা গেছেন মোট ৭জন।
মৃতদের পরিচয় থেকে দেখা যাচ্ছে, যে সমস্ত মানুষ রাস্তায় থাকে বা কায়িক পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করে। যেমন ফেরিওয়ালা বা রিক্সাওয়ালা তারাই বেশি মারা যাচ্ছে এই তাপদাহের কারণে।
বেশি তাপমাত্রা রয়েছে এমন রাজ্যের অনেকগুলোরই স্কুলই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের মন্দির মসজিদ গীর্জায় চলছে প্রার্থনা। আর প্রতি বছরের মতো , এবারও ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বৃষ্টির জন্য চলছে ব্যাঙের বিয়ে।
ভারতের নীতি নির্ধারক মহল বলছেন, ভারতের অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভর করে কৃষির উপর। কিন্তু আবহাওয়া যদি এই রকম হয় তবে কৃষিতে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটবে। আর এর প্রভব পড়তে বাধ্য গোটা দেশের অর্থনীতিতে।










0 comments:
Post a Comment